
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সর্দি, জ্বর এবং কাশি সাধারণ সমস্যা। তবে কাশি অনেক সময় সহজে দূর হয় না এবং কিছুদিন ধরে চলতেই থাকে। কিছু ক্ষেত্রে অ্যালার্জি, অ্যাজমা, শুষ্ক আবহাওয়া বা ধূমপানের কারণেও কাশি হতে পারে। কাশি হলেই অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং কিছু ঘরোয়া পদ্ধতিতে কাশি দূর করা সম্ভব। চলুন, কাশি হওয়ার কারণ এবং ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে কাশি কমানো যায় তা দেখে নিই।
কাশি হওয়ার কারণ:
কাশি হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। কখনও ফুসফুসের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া বা যক্ষার কারণে কাশি হতে পারে, যা দীর্ঘসময় স্থায়ী হতে পারে এবং বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া, সাইনাস সমস্যা, নাকের প্রদাহ, ধূমপান কিংবা অ্যালার্জির কারণেও কাশি হতে পারে। তবে ধূমপানের কারণে যে কাশি হয়, তা শুধুমাত্র ওষুধে ঠিক হবে না, বরং ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
কাশি দূর করার ঘরোয়া উপায়:
১. মধু: কাশি কমাতে মধু অত্যন্ত কার্যকরী। এটি কফ ও গলা ব্যথা কমাতে সহায়তা করে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ২ টেবিল চামচ মধু, অর্ধেকটা লেবুর রস এবং কিছুটা আদার রস মিশিয়ে দিনে ১-২ বার পান করুন। এটি কাশির সমস্যা দ্রুত কমাতে সাহায্য করবে। মধু এক বছর বয়সের নিচে শিশুকে দেওয়া উচিত নয়।
বাসক পাতা: বাসক পাতা পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি ছেঁকে কুসুম গরম অবস্থায় খেলে কাশি উপশম হয়। প্রতিদিন সকালে এই পানিটি পান করুন। তেতো ভাব কমাতে এর সাথে সামান্য চিনি মেশানো যেতে পারে।
তুলসী পাতা: তুলসী পাতা থেঁতো করে মধু মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন এবং দিনে ২-৩ বার খেলে কাশি কমে যাবে।
আদা: আদা কাশি দূর করতে খুব কার্যকরী। আদার ছোট ছোট টুকরা করে লবণ মিশিয়ে খেতে হবে। আদা চা খেলে কাশিতে উপকার পাওয়া যাবে।
গরম দুধে হলুদের মিশ্রণ: গরম দুধের মধ্যে হলুদ মেশালে তা কাশি দূর করতে সহায়তা করে। হলুদ সর্দি-কাশি কমাতে খুবই কার্যকরী একটি উপাদান।
লবঙ্গ: কাশি হলে এক টুকরো লবঙ্গ মুখে রেখে তার রস বের করে খাওয়ার চেষ্টা করুন। এটি গলায় আরাম দেবে এবং জীবাণু দূর করতে সাহায্য করবে।
গার্গল করা: গার্গল করলে কাশি এবং গলা ব্যথা দুই-ই কমে যায়। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট গার্গল করুন। এটি কাশি কমাতে বেশ কার্যকর।
অতিরিক্ত টিপস:
কাশি হলে ঠান্ডা পানির পরিবর্তে গরম পানি পান করুন। গরম পানিতে গোসলও করতে পারেন, যা শরীর থেকে কাশির জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে।
এই উপায়গুলো অনুসরণ করার পরও যদি কাশি কমে না যায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :