• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

তালাক দিতে চাওয়ায় স্বামীর চুরির টাকার কথা ফাঁস করলেন স্ত্রী


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৫, ০৫:৩৭ পিএম
তালাক দিতে চাওয়ায় স্বামীর চুরির টাকার কথা ফাঁস করলেন স্ত্রী

পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে নির্যাতনের পর ঘর থেকে বের করে দেন জহুরুল হক (২৭)। ঘরের ভেতর থেকে খিড়কি লাগিয়ে ব্যাগে কী যেন লুকিয়ে রাখেন তিনি। বেড়ার ফাঁক দিয়ে সেই দৃশ্য দেখেন স্ত্রী। স্ত্রীকে তালাক দেবেন এমন প্রস্তুতি নেন জহুরুল। স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধ করবেন এমন ভাবনায় ঘর থেকে বের হয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ডাকতে যান তিনি।

এর মধ্যে ঘরে ঢুকে দিনমজুর স্বামীর লুকিয়ে রাখা ব্যাগে প্লাস্টিকের বয়ামের ভেতরে মোটা অঙ্কের টাকার বান্ডেল দেখে চোখ ছানাবড়া হয় স্ত্রীর। প্রতিবেশীদের কাছে দিনমজুর স্বামীর ঘরে এমন অস্বাভাবিক টাকার খবর ফাঁস করে দেন স্ত্রী। এরপর বেরিয়ে আসে এক চুরির তথ্য। পরে জহুরুল হককে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন গ্রামবাসী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর খট্টা মাধবপাড়া ইউনিয়নের ভারতের সীমান্তবর্তী মংলাবাজারে ঘটনাটি ঘটেছে।

১৪ মার্চ দুপুরে জুমার নামাজের সময় উপজেলার মংলাবাজারে সুমি গার্মেন্টস অ্যান্ড টেলিকম নামক একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোকানের মালিক আবদুর রাজ্জাক হাকিমপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। ওই চুরির সঙ্গে জহুরুল হক জড়িত বলে জানান তাঁর স্ত্রী। এ তথ্য ফাঁসের পর জহুরুল হক ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার মংলাবাজারের আফতাব উদ্দিনের ছেলে জহুরুল হক, একই ইউনিয়নের সাতকুড়ি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে সাহাজুল ইসলাম (২৬) এবং নওদাপাড়া বিলেরপাড় এলাকার মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে তাইজুল ইসলাম (২৫)। গ্রেপ্তার তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবন ও বিভিন্ন চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
জহিরুলকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁর বাড়ি থেকে সুমি গার্মেন্টস অ্যান্ড টেলিকম কর্তৃপক্ষ নগদ ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। জহুরুলকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর স্ত্রী একই এলাকায় তাঁর এক ফুফুশাশুড়ির বাড়িতে অবস্থান করছেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাপড় ও মুঠোফোন সিম রিচার্জ ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক ও তাঁর দোকানের কর্মচারীরা দোকান বন্ধ করেন। পরে তাঁরা স্থানীয় মংলাবাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষে বেলা পৌনে দুইটার দিকে দোকান খুলে মালিক ও কর্মচারীরা দেখতে পান, দুটি ক্যাশবাক্সের তালা ভাঙা ও দোকানের ভেতর সবকিছু এলোমেলো। এ ছাড়া দোকানঘরের দক্ষিণ-পশ্চিমের সিলিং ও টিনের চাল খোলা দেখতে পান তাঁরা। বিষয়টি আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয়দের জানান দোকানমালিক আবদুর রাজ্জাক। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর দোকানের ক্যাশবাক্সে রাখা কাপড় বিক্রির ৩ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং মুঠোফোনের সিম রিচার্জ কার্ড, নগদ ও বিকাশ ব্যবসার ১০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে।

গ্রেপ্তার জহুরুল ইসলামের স্ত্রী বলেন, ‘আমাক নাকি ওই (স্বামী) ছাড়াছাড়ি করবে। আমাক মারধর করে ঘরোততে বার (বের) করে দিছে। ওই ঘরোত কী যেন করোছেলো। আমি শুল্লি (ছিদ্র) দিয়ে দেখিছি ওই কী যেন বার করোছে। আমি ঘরোত জিনিসপত্র গোছাবার যায়ে ম্যালা ট্যাকা দেখিছি। তখন আমি ট্যাকার কতা মানষোক কয়ে দিছি। এই ট্যাকা দিয়ে ওই (স্বামী) আমাক ছাড়ে দিলো হয়। ওর ফুফু কইছে, “এই বউ ছাড়ে দি, তোক এর চেয়ে ভালো বিয়া করামু। মুই (ফুফু) পনেরো হাজার ট্যাকা দিম। আর তোর প্যাটে (গর্ভে) যদি বাচ্চা ভালো থাকে তাহলে তোর বাচ্চাক দেখাশোনা করা হবে।” ফুফু ওরা প্লান করিছে, আজ দুপুরের পরে আমাক ছাড়াছাড়ি করে দিবে।’

এ বিষয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলার মংলাবাজারে একটি কাপড়ের দোকানে চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত জহুরুল হক ও তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি জহুরুল হকের বাড়ি থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার উদ্ধার করেছেন স্থানীয় লোকজন। চুরি হওয়া বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আসামিদের দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়।


Side banner
Link copied!