
শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের ২৪ টি পরিবার মানব পাচারকারী লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের খপ্পরে পড়ে সন্তানসহ টাকা পয়সা ভিটেমাটি হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিখোঁজ হওয়া স্বজনদের প্রত্যেকটি পরিবার মানব পাচারকারী মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় সামনে মানববন্ধন করেন । গত ৭ই ডিসেম্বর সকাল ১১ টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে লিবিয়ার মানব পাচারকারী মাফিয়া চক্রের হাতে নিখোঁজ হওয়া যুবকদের জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে পিতা-মাতা ভাই-বোন, স্ত্রীরা মানববন্ধন করেন।মানববন্ধনে নিখোঁজ হওয়া আমিনুল ইসলামের মা কমলা বেগম(৪০),গণমাধ্যমকে বলেন, মানব পাচারকারীরা আমাদের পরিচিত পাশের এলাকার দক্ষিণ ভাষানচরের প্রয়াত নুরুল ইসলাম খা এর চার পুত্র কামরুজ্জামান ওরফে টুনু খা(৪২),রাশেদ খাঁ(৪৪),মিজানুর রহমান বাবুল খাঁ (৫০),রাসেল খা (৩২),মোসাম্মৎ হাসিনা বেগম (৩৫) স্বামী:কামরুজ্জামান টুনু খা,আসিফখা(২৫),সুমা(৪০),স্বামী: রাশেদ খাঁ এরা সকলেই একই পরিবারের।পরিচিত হওয়ায় সরাসরি সঠিক ভিসায় তিন মাসের মধ্যে ইতালি নেওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়ায় আমরা সরল বিশ্বাসে দালাল কামরুজ্জামান কে দুই কিস্তিতে ১৮ লক্ষ টাকা দেই।টাকা দেওয়ার তিন মাস গত হলে আমার ছেলেকে ইতালিতে পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করি।চাপ প্রয়োগের এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে প্রথম সপ্তাহে আমার সন্তানকে ইতালিতে পৌঁছানোর কথা বলে বাংলাদেশ বিমানবন্দর ত্যাগ করায়।পরে জানতে পারলাম আমার ছেলে সহ আরো অন্যান্য মায়ের সন্তানদের ইতালিতে না নিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে তাদের মাফিয়া চক্রের সদস্যদের কাছে দিয়ে দেয়।এই মাফিয়া দালালের কাছে লিবিয়ায় জিম্মি আছে শরীয়তপুর জেলার ১৯ যুবক সন্তান ও মাদারীপুরের পাচ যুবক।লিবিয়ার মাফিয়া দালাল চক্রের সদস্যরা আমাদের সন্তানদেরকে ঘরের ভিতরে আটকে রেখে মারধোর করে সেই ভিডিও whatsapp এর মাধ্যমে এই বিদেশগামী সন্তানদের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।আমরা সন্তানদেরকে বাঁচানোর জন্য নিরুপায় হয়ে তাদের কথামতো আমরা টাকা দেই।আমাদের ২৪ পরিবারের সকলের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা করে নেওয়ার পর আমাদের সন্তানদের সাথে যোগাযোগ একেবারে বন্ধ করে দেয়।এখন আমাদের সন্তান কোথায় আছে কিভাবে আছে জীবত আছে না মরে গেছে আমরা তাও জানিনা।আমরা সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি এমনকি মামলা করেও কোন সাহায্য পাইনি।আমরা এখন বাধ্য হয়ে আমাদের সন্তানদেরকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছি এবংজেলা প্রশাসকের বরাবর স্মারক লিপি জমা দিয়েছি।
আপনার মতামত লিখুন :